যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল ডেস্ক, ২০ এপ্রিল, ২০২৫ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এই বিক্ষোভের নাম ‘৫০৫০১’, যার মানে হল ‘৫০ রাজ্যে ৫০ বিক্ষোভ, এক আন্দোলন’।
বিক্ষোভের আয়োজকরা বিশেষভাবে আমেরিকান রিভল্যুশনারি ওয়ারের বা আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের ২৫০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে আমেরিকার জনগণকে একত্রিত করা এবং ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত জানানো।
বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউজের সামনে ছাড়াও বিভিন্ন শহরের কেন্দ্রে এবং টেসলা ডিলারশিপের সামনে সমবেত হন, যেখানে তারা নানা ইস্যুতে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, এল সালভাদরের আবেরগো গার্সিয়াকে ফেরত আনার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনিচ্ছা নিয়ে প্রতিবাদ দেখা গেছে।
এই বিক্ষোভে অংশ নেয়া গিহাদ এলজেন্ডি সিএনএনকে বলেন, “আমি হোয়াইট হাউজের সমালোচনা করতে এখানে এসেছি কারণ ট্রাম্প সহজেই গার্সিয়াকে ফেরত আনতে চাপ দিতে পারেন।”
এছাড়া, অনেক বিক্ষোভকারী ‘নো কিংস’ সাইন নিয়ে হাজির হন, যা মূলত ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপন ও সমর্থন হিসেবে ছিল। ম্যাসাচুসেটসের লেক্সিংটন ও কনকর্ডের যুদ্ধ স্মরণ করা হয়, যা আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত।
এই বিক্ষোভে অংশ নেয়া থমাস ব্যাসফোর্ড এপিকে বলেন, “এটা আমেরিকায় স্বাধীনতার জন্য বিপদজনক সময়। আমি আমার পার্টনার, কন্যা এবং দুই নাতিকে নিয়ে এখানে এসেছি যাতে তারা আমাদের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে, যে সময়ে আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করেছি।”
বর্তমান জনমত জরিপ অনুযায়ী, গ্যালাপের মতে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সমর্থন ছিল ৪১ শতাংশ, কিন্তু বর্তমান সময়ে তার সমর্থন ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও এটি ১৯৫২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অন্যান্য প্রেসিডেন্টদের প্রথম চার মাসের গড় সমর্থনের তুলনায় কম।
এর আগে, চলতি মাসে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তন নিয়ে দেশব্যাপী প্রতিবাদ হয়েছিল, যা শনিবারের বিক্ষোভের তুলনায় অনেক বড় ছিল। এই আন্দোলনটি পঞ্চাশ রাজ্যে অন্তত ৮০০ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবং এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট শপথগ্রহণের পর থেকে, প্রতি বছর “পিপলস মার্চ” নামে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে মূলত নারীরা অংশ নেন এবং ‘ট্রাম্পিজম’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকেন।
ভিওবি/ এসজিএন
