ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফোলি স্কয়ারে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে মিছিল আকারে ট্রাইবেকা অতিক্রম করে ফেডারেল ইমিগ্রেশন আদালতের দিকে অগ্রসর হয়। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান, আক্রমণ এবং গ্রেপ্তার প্রতিরোধ। এছাড়া, একজনকে উদ্বেগজনক ঝুঁকি সৃষ্টি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৫২ জনকে আদালতের সমন দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাত ৯টার পর বিক্ষোভকারীরা যখন ফের ২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে জড়ো হন। তখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছোঁড়ে, রাস্তায় ট্রাফিক কন ও আবর্জনা ছুঁড়ে ফেলে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে লেভেল ৩ মোতায়েন ঘোষণা করে এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল স্পিকার অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, নিউইয়র্ক পুলিশ গোপনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছে। যা নগরীর নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য সিটি ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। বর্তমানে অ্যাড্রিয়েন অ্যাডামস মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস এর অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি একজন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর ‘সস্তা প্রচারণার চেষ্টা’। মেয়র আরও বলেন, ‘নিউইয়র্কে সহিংসতা ও আইনভঙ্গ সহ্য করা হবে না।’
এদিকে বিক্ষোভকারীরা বুধবার বিকেল ৫টায় আবার ফোলি স্কয়ারে জমায়েত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে সোমবার দিনেও অনুরূপ বিক্ষোভে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন।
উল্লেখ্য, অভিবাসনবিরোধী এই পদক্ষেপে শুধু নিউইয়র্ক নয়, লস অ্যাঞ্জেলেসেও ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশ গ্রেনেড ব্যবহার করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অভিবাসী। যার ফলে এই ধরনের নীতি ও অভিযান শহরের সামাজিক ভারসাম্যে গভীর প্রভাব ফেলছে।
