ইউএস নিউজবাংলাদেশসর্বশেয়

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ ডে ও বাংলা নববর্ষ

নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীর ক্যাপিটাল হিলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হলো বাংলাদেশ ডে  ও বাংলা নববর্ষ বরণ। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সেখানে বাংলাদেশীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। নববর্ষ উপলক্ষে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়াও স্টেট সিনেটদের বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বাংলা গানের সাথে সাথে অনেকেই নেচেছেন। চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল নিউইয়র্ক সিনেটে বাংলাদেশের বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সেই সাথে সাথে এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি বছর উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই অংশ হিসাবে এবারে উদযাপন করা হলো। এখন থেকে প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ ডে উদযাপন করা হবে।

২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এই সব তুলে ধরা হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন স্টেট সিনেটর উপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে ক্যাপিটাল হিলের ভেতরে বাংলাদেশের দুই শতাধিক মানুষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ক্যাপিটাল হিলে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর হাউজে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ জে২৩৪ নম্বর রেজুলেশনে গ্রহণ করা হলো সোমবার ২৮ এপ্রিল । বলা যায়, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট এদিন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল, বাংলা গান ও নাচের সঙ্গে পাঁচ জন সিনেটরের নাচ ও গানের ভঙ্গিমা সত্যিই বাঙালি সংস্কৃতির জন্য ছিল অভিনব। এর আগে বিদেশিদের মধ্যে এ ধরনের মুখরিত হয়ে ওঠার দৃশ্য দেখা যায়নি। আসলে ২৮ এপ্রিল বিশ্বসভায় বাংলাদেশ ও বাঙালির জয়গান নতুন মাত্রায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিনেটর সেপুলভেদা সকলকে স্বাগত জানান। দুই শতাধিক বাঙালি ও আমেরিকানদের অংশগ্রহণে মিলন মেলায় পরিণত হয় বাংলা নববর্ষ উদযাপন। সিনেটর সেপুলভেদা তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাঙালিদের অবদান তুলে ধরে বাংলা নববর্ষকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের অন্যতম উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করেন। সিনেটর ফার্নান্দেজ এবং অন্যান্য সিনেটর এসময় উপস্থিত ছিলেন। বাঙালিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিশ্বজিত সাহা, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. নজরুল ইসলাম এবং শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্কের ক্যাপিটল হিলে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ছিলেন মুক্তধারা ও এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের নেতৃবৃন্দ। এছড়াও তাদের শিল্পী বৃন্দ। এছাড়াও কম্যুনিটির লিডারদের অনেকেই সেখানে যোগ দেন ও অনুষ্ঠানটি সফল করে তুলেন। সকলেই বিশ্বায়নের যুগে বাংলা সংস্কৃতির জয়গান করেন এবং সিনেটরদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে কথা বলেন। বিশ্ববাঙালির কাছে এই উদযাপন স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন রথীন্দ্রনাথ রায়।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে অফিসিয়ালী স্বীকৃতি দেয়ার পেছনে যার বেশি অবদান তিনি হলেন বিশ্বজিত সাহা। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে অফিসিয়ালী স্বীকৃতির একটি রেজ্যুলেশন পাস করা হয়। সেই রেজ্যুলেশন পাস করার পর এবার প্রথমবারের মতো আলবেনীতে ক্যাপিটল হিলে নববর্ষ উদযাপন করা হয়। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছেন নিউইয়র্ক এর গভর্নর ক্যাথি হোকুল, সিনেটর সুপেলভেদা এবং অন্যান্য সিনেটররা। তারাই ১৪ এপ্রিল নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে বাংলা নববর্ষ ডে হিসাবে পাস করেন। বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, এবার প্রথমবার এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো। এখানে প্রায় তিন’শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা নিউইয়র্কের ক্যাপিটল হিলে এমন একটি অনুষ্ঠান করতে পেরেছি। এটা অবশ্যই সকল প্রবাসী বাংলাদেশীর জন্য আনন্দের। আমরা আমাদের অনুষ্ঠান কেমন হয়েছে এটা বলতে চাই না এটা বলবেন অন্যান্যরা সবাই।

 

ভয়েস অব বাফেলো, ইউএস নিউজ

 

Related posts

কনস্যুলার সেবা ফি বৃদ্ধি: নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিবাদ

msdzeroo

বৈশাখি টিভির সাংবাদিকের ওপর হামলা

msdzeroo

‘বিগ বিউটিফুল বিল’ পাশ

msdzeroo

Leave a Comment